খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকাঃ সম্পূর্ণ গাইড
Bohubidho
১৬ ডিসে, ২০২৫
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা জানার জন্য খুলনা থেকে
রাজশাহী বা মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে গমনকারী অনেকেই খোঁজ নিয়ে থাকেন। যারা খুলনা
থেকে রাজশাহী বা মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে ভ্রমন করতে চান তাদের সহজে ও সুলভে
ভ্রমনের জন্য ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা জানার প্রয়োজন রয়েছে। এই
আর্টিকেলে ট্রেনে করে খুলনা থেকে রাজশাহী বা মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে ভ্রমনের জন্য
ট্রেনের নাম, সময়সূচী, ভাড়ার পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে।
আপনি কি ট্রেনে করে খুলনা থেকে রাজশাহী বা মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে ভ্রমন করতে
ইচ্ছুক। কিন্তু ট্রেনের নাম, সময়সূচী, ভাড়ার পরিমাণ সম্পর্কে জানা নেই? ট্রেনে
করে খুলনা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জনের কাছে অথবা গুগলে অনুসন্ধান
করছেন? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এই আর্টিকেল থেকে জেনে নিন খুলনা টু
রাজশাহী চলাচলকারী ট্রেনের নাম, কখন ছাড়ে, কোন্ কোন্ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়,
ভাড়ার পরিমাণ কত, ইত্যাদি তথ্য। তথ্যসমূহ বিস্তারিত জানতে মনোযোগ সহকারে
আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ করছি।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা
খুলনা থেকে অনেক মানুষ রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ভ্রমন করে থাকেন। বাংলাদেশের
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হতে ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখাপড়া, চিকিৎসা, ঘোরাঘুরি প্রভৃতি কাজে
উত্তরাঞ্চলের এই রাজশাহী শহরে আসেন। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সহ আরও অনেক শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আসতে হয় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে। নিরাপদ
ও সুলভ ভ্রমনের জন্য তখন তারা বাসের পরিবর্তে ট্রেনকেই বেছে নেয়।
খুলনা টু রাজশাহী রুটে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি জনপ্রিয় ও আরামদায়ক
মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন হতে বিবেচিত। কারণ এই রুটে ট্রেন ভ্রমন সুলভ, নিরাপদ ও
সময় বান্ধব। নির্ধারিত সময়ে যাতায়াতের একটি চমৎকার মাধ্যম হিসেবেও সকলের কাছে
গ্রহনযোগ্য। তাই খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা-কে আজকের
আর্টিকেলের বিষয় বস্তু হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।
খুলনা টু রাজশাহী রুটে ২০২৫ সালে কয়টি ট্রেন চলাচল করে, কখন ছাড়ে, কখন পৌঁছে,
ভাড়া কত টাকা, কিভাবে টিকিট কাটা যায় ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে এই আর্টিকেলটি
সাজানো হয়েছে। আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আপনার ভ্রমনকে স্বাচ্ছন্দময় করুন।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের নাম
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে আলোচনার এ’
পর্যায়ে জেনে নিই কোন কোন ট্রেন এই রুটে চলাচল করে থাকে। এই রুটে বর্তমানে দুইটি
আন্তঃনগর ট্রেন ও একটি মেইল ট্রেন চলাচল করে। চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন দুটি
হচ্ছে-১. কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ও ২. সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস এবং মেইল ট্রেন
হচ্ছে-মহানন্দা এক্সপ্রেস।
খুলনা থেকে ছেড়ে আসার সময় এই ট্রেনগুলির নম্বর হচ্ছে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস-৭১৫,
সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস-৭৬১ এবং মহানন্দা এক্সপ্রেস-১৫, এই ট্রেনগুলি সব আপ ট্রেন।
কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন হওয়ায় এই দুটি ট্রেন
মহানন্দা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেন অপেক্ষা দ্রুতগামী। তাই এই আর্টিকেলে আমরা মূলতঃ
আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়েই আলোচনা করব। অন্য আর্টিকেলে মহানন্দা মেইল ট্রেন
নিয়ে লেখার প্রত্যাশা রইল।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় ১ মে, ১৯৮৬ সালে।তবে কিছুদিন বন্ধ
থাকার পর ১৯৮৯ সাল থেকে এই ট্রেন এই রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। এই ট্রেনে সাধারনতঃ
১১ টি র্যাক বা কোচ থাকে। এর মধ্যে ১ টি এসি চেয়ার কার, ৮ টি নন-এসি চেয়ার কার ও
২ টি পাওয়ার কার (যা যাত্রী বসার জন্য নয়)। তবে বিশেষ কারিগরী কারণ ছাড়া অন্য
একটি কোচও সংযুক্ত থাকতে পারে। সেটি হলো খাবার গাড়ি বা প্যান্ট্রি কার। এতে
আমেরিকার তৈরী ডিজেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ (জিটিএল ৪২ এসিএল) ব্যবহৃত হয়।
সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় ১মে, ২০০৭। এই ট্রেনে সাধারনতঃ ১০
টি র্যাক বা কোচ সংযুক্ত থাকে । এর মধ্যে ৭ টি নন এসি শোভন চেয়ার কার, ১ টি
এসি চেয়ার কার ও ১ টি পাওয়ার কার, ১ টি গার্ড ভ্যান। তবে কোনো কোনো দিনে ১ টি
কোচ কম-বেশী হতে পারে। এই ট্রেনটিতে কোনো খাবার গাড়ী বা প্যান্ট্রি কার থাকে
না। এতে ২৯০০, ৩০০০ বা ৩১০০ সিরিজের ডিজেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ ব্যবহৃত হয়।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেন ভ্রমনের জন্য ট্রেনের সময়সূচী জানা অত্যন্ত জরুরী।
যাত্রার পূর্বে সঠিক পরিকল্পনা সাজানো, টিকিট ক্রয়, স্টেশনে উপস্থিতি ইত্যাদি
সফলভাবে যাতে শেষ করে ট্রেন ভ্রমন নির্বিঘ্ন করা যায় সেজন্য ট্রেনের সময়সূচী
সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকেবহাল থাকা আবশ্যক। ভ্রমনেচ্ছুগণ সময়সূচী জানার জন্য
পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে জানার চেষ্টা করেন, স্টেশনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জনার চেষ্টা
করেন অথবা অনলাইনে অনুসন্ধান করে জেনে থাকেন।
কিন্তু এই আর্টিকেল পড়লে আপনারা টেনের সকল সময়সূচী বিস্তারিত জেনে যাবেন। সকলের
সুবিধার জন্য এই আর্টেকেলটি লেখা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাপ্তহিক ছুটি প্রতি শুক্রবার। শুক্রবার ছাড়া
সপ্তাহের অন্য ছয় দিন সকাল ৬:৪৫ মিনিটে খুলনা স্টেশন ত্যাগ করে এবং ৫ ঘন্টা
৩৫ মিনিট চলার পর দুপুর ১২:২০ মিনিটে রাজশাহী পৌছায়।
সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাপ্তহিক ছুটি প্রতি সোমবার। সোমবার ছাড়া সপ্তাহের
অন্য ছয় দিন বিকাল ৪ঃ০০ মিনিটে খুলনা স্টেশন ত্যাগ করে এবং ৬ ঘন্টা চলার পর
দুপুর ১০ঃ০০ মিনিটে রাজশাহী পৌছায়।
নীচে খুলনা টু রাজশাহী ট্রেন ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন
ইত্যাদি তথ্য ছক আকারে দেয়া হলো।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে আলোচনার এ’
পর্যায়ে জেনে নিই খুলনা টু রাজশাহী চলাচলকারী ট্রেন কোন্ কোন্ স্টেশনে কতক্ষণের
যাত্রাবিরতি করে থাকে। তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যেহেতু যাত্রাপথের সকল
স্টেশনে এই আন্তঃনগর ট্রেনগুলি থামেনা, সেহেতু কোন্ স্টেশনে কতক্ষণ থামে সেটা
জানা থাকলে যাত্রা পরিকল্পনা ও সেই অনুযায়ী ওঠা-নামা করতে সুবিধা হয়। নীচে দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির তথ্য প্রদান করা হলো।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনঃ
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি শুরু ও শেষ স্টেশন বাদে যাত্রাপথে মোট ১৩ টি
স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময় বিভিন্ন
রকম। সেই তথ্য নীচে প্রদান করা হলো।
স্টেশনের নাম
পৌঁছে
ছাড়ে
স্টেশনে বিরতি
খুলনা
স্টেশনে অপেক্ষমান
৬ঃ৪৫
যাত্রা শুরু
নোয়াপাড়া
৭ঃ১৮
৭ঃ২০
০ঃ০২ মিনিট
যশোর
৭ঃ৪৮
৭ঃ৫১
০ঃ০৩ মিনিট
মোবারকগঞ্জ
৮ঃ১৮
৮ঃ২০
০ঃ০২ মিনিট
কোটচাঁদপুর
৮ঃ৩১
৮ঃ৩৩
০ঃ০২ মিনিট
সাফদারপুর
৮ঃ৪২
৮ঃ৪৪
০ঃ০২ মিনিট
দর্শনা হল্ট
৯ঃ০২
৯ঃ০৫
০ঃ০৩ মিনিট
চুয়াডাঙা
৯ঃ২৪
৯ঃ২৭
০ঃ০৩ মিনিট
আলমডাঙা
৯ঃ৪২
৯ঃ৪৪
০ঃ০২ মিনিট
পোড়াদহ
১০ঃ০০
১০ঃ০৩
০ঃ০৩ মিনিট
মিরপুর
১০ঃ১৩
১০ঃ১৫
০ঃ০২ মিনিট
ভেড়ামারা
১০ঃ২৫
১০ঃ২৭
০ঃ০২ মিনিট
পাকশী
১০ঃ৩৯
১০ঃ৪১
০ঃ০২ মিনিট
ঈশ্বরদী
১০ঃ৫০
১১ঃ১০
০ঃ২০ মিনিট
আজিমনগর
১১ঃ২২
১১ঃ২৪
০ঃ০২ মিনিট
আব্দুলপুর
১১ঃ৪৫
--
বিরতি নেই
রাজশাহী
১২ঃ২০
স্টেশনে অবস্থান
যাত্রা শেষ
সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনঃ
সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি শুরু ও শেষ স্টেশন বাদে যাত্রাপথে মোট ১৫
টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময়
বিভিন্ন রকম। সেই তথ্য নীচে প্রদান করা হলো।
স্টেশনের নাম
পৌঁছে
ছাড়ে
স্টেশনে বিরতি
খুলনা
স্টেশনে অপেক্ষমান
৪ঃ০০
যাত্রা শুরু
নোয়াপাড়া
৪ঃ৩৩
৪ঃ৩৬
০ঃ০৩ মিনিট
যশোর
৫ঃ০৩
৫ঃ০৮
০ঃ০৫ মিনিট
মোবারকগঞ্জ
৫ঃ৩৫
৫ঃ৩৭
০ঃ০২ মিনিট
কোটচাঁদপুর
৫ঃ৪৯
৫ঃ৫১
০ঃ০২ মিনিট
সাফদারপুর
৬ঃ০০
৬ঃ০২
০ঃ০২ মিনিট
দর্শনা হল্ট
৬ঃ২১
৬ঃ২৪
০ঃ০৩ মিনিট
চুয়াডাঙা
৬ঃ৪৩
৬ঃ৪৬
০ঃ০৩ মিনিট
আলমডাঙা
৭ঃ০২
৭ঃ০৪
০ঃ০২ মিনিট
পোড়াদহ
৭ঃ২০
৭ঃ২৩
০ঃ০৩ মিনিট
মিরপুর
৭ঃ৩৩
৭ঃ৩৫
০ঃ০২ মিনিট
ভেড়ামারা
৭ঃ৪৫
৭ঃ৪৭
০ঃ০২ মিনিট
পাকশী
৭ঃ৫৯
৮ঃ০১
০ঃ০২ মিনিট
ঈশ্বরদী
৮ঃ১০
৮ঃ৩০
০ঃ২০ মিনিট
আজিমনগর
৮ঃ৪৩
৮ঃ৪৫
০ঃ০২ মিনিট
আব্দুলপুর
৮ঃ৫৩
৮ঃ৫৬
০ঃ০৩ মিনিট
রাজশাহী
১০ঃ০০
স্টেশনে অবস্থান
যাত্রা শেষ
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের ভাড়ার হার
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে আলোচনার এ’
পর্যায়ে জেনে নিই খুলনা টু রাজশাহী চলাচলকারী ট্রেনের ভাড়ার হার। আমরা সবাই জানি,
ভাড়ার পরিমাণ নির্ভর করে দূরত্বের উপর এবং আসন ব্যবস্থার উপর। আন্তঃনগর এই
ট্রেনদুটিতে বিভিন্ন রকম আসন ব্যবস্থা রয়েছে। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে রয়েছে
শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা (Snigdha) শ্রেণীর আসন। সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে
রয়েছে শোভন চেয়ার ও এসি-সীট (AC-S) চেয়ার, শ্রেণীর আসন। তবে সব স্টেশনের
জন্য স্নিগ্ধা বা ্এসি-সীট বরাদ্দ থাকে না। নীচে খুলনা হতে স্টেশন ও আসন
ভিত্তিক ভাড়ার তালিকা দেয়া হলো। তালিকায় উল্লেখিত সকল ভাড়া ভ্যাট সহ হিসেবে
বিবেচনা করতে হবে। তবে অনলাইনে টিকিট কাটতে হলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ২০
(বিশ) টাকা যোগ হবে।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকাঃ
(খুলনা হতে-)
স্টেশনের নাম
শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া, টাকা
স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া, টাকা
নোয়াপাড়া
৫০
১১৫
যশোর
৭০
১৩৩
মোবারকগঞ্জ
১০৫
১৯৬
কোটচাঁদপুর
১২০
২২৫
সাফদারপুর
১২৫
--
দর্শনা হল্ট
১৫০
২৮২
চুয়াডাঙা
১৬৫
৩১৭
আলমডাঙা
১৮৫
৩৫১
পোড়াদহ
২০৫
৩৮৬
মিরপুর
২১০
৪০৩
ভেড়ামারা
২২৫
৪২৬
পাকশী
২৮০
৫৪১
ঈশ্বরদী
২৯০
৫৫৮
আজিমনগর
৩০৫
৫৮৭
আব্দুলপুর
৩২০
--
রাজশাহী
৩৬০
৬৯০
সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকাঃ
(খুলনা হতে-)
স্টেশনের নাম
শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া, টাকা
এসি-সীট আসনের ভাড়া, টাকা
নোয়াপাড়া
৫০
--
যশোর
৭০
১৫৬
মোবারকগঞ্জ
১০৫
--
কোটচাঁদপুর
১২০
--
সাফদারপুর
১২৫
--
দর্শনা হল্ট
১৫০
৩৪০
চুয়াডাঙা
১৬৫
৩৮০
আলমডাঙা
১৮৫
--
পোড়াদহ
২০৫
--
মিরপুর
২১০
--
ভেড়ামারা
২২৫
--
পাকশী
২৮০
--
ঈশ্বরদী
২৯০
৬৬৭
আজিমনগর
৩০৫
--
আব্দুলপুর
৩২০
--
রাজশাহী
৩৬০
৮২৮
উল্লেখ্য, এই ভাড়ার তালিকা বর্তমান প্রচলিত হার অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। এই
হার সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে। তাই সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ
রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ই-টিকেটিং সাইট (eticket.railway.gov.bd) দেখার
জন্য অনুরোধ করা হলো।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সুবিধা ও যাত্রার অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশ রেলওয়ের টেন ভ্রমন মানেই এক আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমন। খুলনা টু রাজশাহী
রুটের ট্রেন ভ্রমনও ঠিক একই অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি
ব্যয় সাশ্রয়ী। পারিবারিক অথবা একক যেমন পরিকল্পনাই করা হোক না কেন ট্রেনে
নির্দিষ্ট আসন অনুযায়ী আরামদায়ক বসার, সংগে থাকা লাগেজ বা ছোটোখাটো মালামাল
স্বচ্ছন্দে পরিবহনের সুযোগ থাকে। শোভন চেয়ার শ্রেণীর চেয়ে এসি-সীট বা স্নিগ্ধা
শ্রেণীর আসন ভ্রমন আরো আরামদায়ক। কারণ এসি বগিতে ধুলাবালি, বাইরের শব্দ কম থাকায়
সেখানে পরিবেশ দূষণ ও শব্দ দূষণের মাত্রা কম।
এছাড়া রয়েছে চলন্ত অবস্থায়ও হাটাহাটি করার সুযোগ। রয়েছে টয়লেটের ব্যবস্থা, মোবাইল
চার্জিং-এর ব্যবস্থা। ট্রেন বিভিন্ন জায়গায় থামার ফলে মধ্যবর্তী স্টেশনে নেমে
যাত্রীগন তাদের কাঙ্খিত গন্তব্যে যেতে পারেন। স্টেশনে অপেক্ষমান স্বজনদের সাথে
সাক্ষাৎ করতে পারেন। ভ্রমনকারী বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মানুষের সাথে একটি চমকপ্রদ
যোগসূত্র এই যাত্রায় স্থাপন করা যায়।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা তো পাওয়া গেলো। কিন্তু
কিভাবে এই ভাড়া পরিশোধ করে টিকেট কাটবেন সেটা এইবার জেনে নেয়া যাক। ট্রেনের টিকিট
কাটার জন্য দুই রকম পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। ১. অনলাইন পদ্ধতি, ২. অফলাইন
পদ্ধতি। আসুন এই দুই পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।
অনলাইন পদ্ধতিঃ
বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে টেনের টিকিট কাটার
জন্য অনলাইন ব্যবস্থাও চালু করেছে। অনলাইনে টিকিট কাটা ঝামেলা মুক্ত ও সময়
বাঁচায়। অনলাইনের মাধ্যমে যাত্রীরা নিদির্ষ্ট তারিখের পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যবর্তী
যে কোনো দিনের টিকেট অগ্রীম কিনে রাখতে পারেন। অনলাইনে টিকেট কাটার জন্য
ওয়েবসাইটের লিংক (eticket.railway.gov.bd) অথবা মোবাইল এপস (Rail sheba) ব্যবহার করা যায়। তবে রেলওয়ে বর্তমানে এপস ব্যবহার করে টিকিট কাটার জন্য
যাত্রীদেরকে উৎসাহিত করছেন। বর্ণিত এপসে গিয়ে স্ব স্ব এনআইডি দিয়ে ও নির্দিষ্ট
মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করার পর অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। টিকিটের
জন্য পরিশোধযোগ্য মূল্য বিকাশ, নগদ, উপায়, এম ক্যাশ, ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড-এর
মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।
অনলাইন ছাড়াও সরাসরি স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে অফলাইনে একজন যাত্রী টিকিট কাটতে
পারেন। বিশেষ করে যারা এখনও অনলাইন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নন বা ইন্টারনেট সুবিধা কম
ব্যবহার করেন, তাদের জন্য কাউন্টারে টিকিট কাটার ব্যবস্থা এখনো অনেকটাই
সুবিধাজনক। তবে যনি কাউন্টারে টিকিট কাটার জন্য যাবেন তাকে সংগে রেজিস্ট্রেশন করা
মোবাইল নম্বর থাকতে হয় বা রেজিস্টার্ড নম্বর যুক্ত মোবাইল সেট থাকতে হয়। সুতরাং
ট্রেন ভ্রমন করতে ইচ্ছুক হলে অবশ্যই রেলওয়ের নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে গিয়ে এনআইডি
দিয়ে একটি মোবাইল নম্বরকে রেজিষ্টেশন করে নেয়া জরুরী। স্টেশনে এসে টিকিট কাটতে হলে
কাউন্টারে লম্বা লাইন থাকতে পারে। তাই ট্রেন সিডিউলের আগেই কাউন্টারে হাজির হতে
হবে বা কয়েকদিন আগে টিকিট কেটে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচীঃ বিস্তারিত ভূমিকা
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা জেনে আপনি টিকিট কাটতে
গিয়ে সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছেন? কোন ট্রেনে টিকিট কাটবেন ভাবছেন? কোন ট্রেনে
ভ্রমন উপভোগ্য হবে ভাবছেন? আসলে দুটি ট্রেনই উপভোগ্য। আপনি কপোতক্ষ এক্সপ্রেস
ট্রেনে সকালের সূর্যাদয় দেখতে দেখতে দুপুর গড়ানোর আগেই পৌঁছে যাবেন আপনার
গন্তব্যে। সকালের শীতল আবহাওয়া আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
আবার সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমনের জন্য দিনের কাজ সেরে মধ্যাহ্নের খাবার
খেয়ে যাত্রা শুরু করতে পারবেন। রাত গভীর হওয়ার আগেই পৌঁছে যেতে পারেন
গন্ত্রব্যে। গোধুলির চমৎকার পরিবেশটাও এক্ষেত্রে উপভোগ করতে করতে ক্লান্তিহীন
যাত্রা আপনাকে স্বস্তিতে নিয়ে যাবে আপনার কাঙ্খিত স্টেশনে।
খুলনা টু রাজশাহী ট্রেন: সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর
খুলনা টু রাজশাহী ভ্রমনের পরিকল্পনা যখন করা হয় তখন নানা জিজ্ঞাসা মনের
মধ্যে জাগে এবং তার উত্তর খুঁজতে নানা জনের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয় বা
ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করার প্রয়োজন হয়। এই আর্টিকেলে বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত
আলোচনা করেছি। তার পরেও কিছু সাধারণ প্রশ্ন যাত্রীদের মধ্যে থেকে যায়। নীচে
তার কয়েকটির উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি।
১। খুলনা হতে রাজশাহীর রেলপথের দূরত্ব কত?
উত্তরঃ খুলনা হতে রাজশাহীর রেলপথের দূরত্ব প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার।
২। ভ্রমনের সময় কি টিকেটের প্রিন্টে কপি রাখা বাধ্যতামূলক?
উত্তরঃ না, ভ্রমনের সময় টিকেটের সফট কপি বা প্রিন্টেড কপি রাখলে চলবে।
৩। কত বছর বয়সের শিশুদের টিকেট প্রয়োজন নেই?
উত্তরঃ ৩ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকিট কাটার প্রয়োজন নেই।
৪। শিশুর বয়স ১০ বছর হলে টিকেটে কাটার প্রয়োজন হবে কিনা?
উত্তরঃ হ্যাঁ। রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ৩ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য
অপ্রাপ্তবয়স্ক টিকেট (Minor Ticket) কেনা বাধ্যতামূলক।
৫। কত ওজনের লাগেজ টেনে ফ্রি বহন করা যায়?
উত্তরঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি টিকেটের বিপরীতে এসি
শ্রেণীতে ৫৬ কেজি ও শোভন শ্রেণীতে ২৮ কেজি লাগেজ ফ্রি বহন করা যায়। তবে এর
অতিরিক্ত হলে নির্দিষ্ট হারে মুল্য পরিশোধ করার প্রয়োজন হবে।
৬। ট্রেনের অভ্যন্তরে কি Wi-Fi সার্ভিস পাওয়া যায়?
উত্তরঃ না, বর্তমানে ট্রেনের অভ্যন্তরে এখনও Wi-Fi সার্ভিস সুবিধা চালু করা
হয়নি।
শেষ কথাঃ খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময় সূচী ২০২৫ এবং ভাড়ার তালিকা
এতক্ষণ খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ এবং ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করা হলো। খুলনা টু রাজশাহী ট্রেনের রুটটি আমাদের দেশে গুরুত্বপূর্ণ,
নিরাপদ ও জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যমে। এই রূটে চালাচলকারী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন
ও সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যবহার করে এই রুটে আপনারা সহজেই চলাচল করতে
পারবেন।
এই কনটেন্টে এই রুটে যে সকল ট্রেন চলাচল করে তার নাম, কোন্ কোন্ স্টেশনে যাত্রা
বিরতি দেয়, কতক্ষণ যাত্রা বিরতি দেয়, আসন শ্রেণী অনুযায়ী ভাড়ার হার, ট্রেনে কি
সুবিধা পাওয়া যায়, কিভাবে টিকিট কাটা যায় ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা
হয়েছে। এছাড়া সচরাচর জিজ্ঞাস্য কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরও দেয়া হয়েছে।
আশাকরি কনটেন্টটি খুলনা থেকে রাজশাহী ভ্রমনের জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
সঠিকভাবে সময়সূচী জানা, ভাড়ার তথ্য জানা, টিকিট কাটার পদ্ধতি জানা এবং ট্রেন
যাত্রার সুবিধা-অসুবিধা বোঝার মাধ্যমে আপনাদের যাত্রা স্বচ্ছন্দময়,
সুন্দর ও স্মরণীয় হোক। আমাদের সাথে থাকুন। নতুন নতুন কনটেন্ট পড়ুন। ধন্যবাদ।
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও বহুবিধ.কম এর এডমিন।
তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।
৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।
বহুবিধ.কম-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url