খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা-বিস্তারিত তথ্য
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা জানার জন্য অনেকে গুগলে বা
ইউটিউবে খোঁজ নিয়ে থাকেন। কিন্তু কোন্ রুটে গেলে দ্রুততম সময়ে ঢাকা পৌঁছানো
যাবে, ভাড়ার হার কত, কোন্ কোন্ স্টেশনে থামে ইত্যাদি নানা তথ্য সহজে না
পাওয়ায় তাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তাদের জন্য এই আর্টিকেলে ট্রেনে করে খুলনা
থেকে ঢাকা বা মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে ভ্রমনের জন্য ট্রেনের নাম, সময়সূচী, ভাড়ার
পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হলো।
বিভিন্ন রুটে এখন খুলনা টু ঢাকাগামী ট্রেন চলাচল করায় কোন্ ট্রেন কোন্ রুটে চলছে
তা' স্পষ্ট জানা দরকার। তাই খুলনা টু ঢাকা বা মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে ভ্রমন করতে
ইচ্ছুক হলে আপনার জানা প্রয়োজন চলাচলকারী ট্রেনের নাম, সময়সূচী, ভাড়ার পরিমাণ
সম্পর্কে। যদি এই সম্পর্কে আপনি আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ুন। বিস্তারিত জেনে নিন।
পেজ সূচীপত্রঃ খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা
- খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা
- খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের নাম
- খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
- খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের যাত্রাবিরতি স্টেশনসমূহ
- খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার হার
- খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট কাটাঃ অনলাইন বনাম অফলাইন
- খুলনা টু ঢাকা ট্রেনঃ সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর
- শেষ কথাঃ খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা
যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা খুলনা হতে রাজধানী
ঢাকা যাতায়াতের জন্য ট্রেন একটি নিরাপদ ও সুলভ বাহন হিসেবে বিবেচিত ছিল। কিন্তু
ভ্রমনে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই অনেকের বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের মানুষের
চাওয়া ছিল পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ। বর্তমানে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ
স্থাপনের পর খুলনা হতে ঢাকা যাওয়ার জন্য ট্রেন একটি জনপ্রিয় বাহন হয়ে উঠেছে।
নিরাপদ ও সুলভ ভ্রমনের জন্য এখন অনেকেই বাসের পরিবর্তে ট্রেনকেই বেছে নেয়।
সময় সাশ্রয়ের বিষয়টি বিচেনায় রেখে খুলনা টু ঢাকা রুটে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশ
রেলওয়ে দুটি ট্রেন পদ্মা সেতু হয়ে যাতাযাতের ব্যবস্থা করেছে। পূর্বের রুট সহ
পরিবর্তিত রুটে কখন, কোন্ ট্রেন চলছে, কোথায় বিরতি দিচ্ছে, ভাড়া কত এ’ বিষয়গুলি
জানানোর জন্যই খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা-কে আজকের
আর্টিকেলের বিষয় বস্তু হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের যাত্রা বিরতি স্টেশনসমূহ
খুলনা টু ঢাকা রুটে ২০২৫ সালে কয়টি ট্রেন চলাচল করে, কখন ছাড়ে, কখন পৌঁছে, ভাড়া
কত টাকা, কিভাবে টিকিট কাটা যায় ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে এই আর্টিকেলটি
সাজানো হয়েছে। স্বাচ্ছন্দময় ভ্রমনের জন্য আর্টিকেলটি শুরু হতে শেষ পর্যন্ত
পড়ুন।
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের নাম
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে আলোচনার এ’ পর্যায়ে
জেনে নিই কোন্ কোন্ ট্রেন এই রুটে চলাচল করে থাকে। এই রুটে বর্তমানে তিনটি
আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলি হচ্ছে-১. সুন্দরবন
এক্সপ্রেস ও ২. চিত্রা এক্সপ্রেস এবং ৩. জাহানাবাদ এক্সপ্রেস।
খুলনা থেকে ছেড়ে আসার সময় এই ট্রেনগুলির নম্বর হচ্ছে সুন্দরবন এক্সপ্রেস-৭২৫,
চিত্রা এক্সপ্রেস-৭৬৩ এবং জাহানাবাদ এক্সপ্রেস-৮২৫, এই ট্রেনগুলি সব আপ ট্রেন।
আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন হওয়ায় এই ট্রেনগুলি বেশ দ্রুতগামী। তবে এর মধ্যে
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্টেনটি সবচে’ দ্রুততম সময়ে ঢাকা পৌঁছে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় ১৭ আগস্ট, ২০০৩ সালে। তখন থেকে এই
ট্রেন খুলনা টু ঢাকা রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। তবে তখন এটি যমুনা সেতু হয়ে চলাচল
করতো। তখন এটি ৮ জেলার মানুষকে নিরাপদ ভ্রমন সেবো উপহার দিয়েছে। ট্রেনটিতে
ডিজেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ ডব্লিউডিএম-৩এ (WDM-3A) ব্যবহৃত হয়। এই ট্রেনে ১৩ টি
কোচ বা বগি থাকে। এর মধ্যে ৫ টি এসি বগি, ৫ টি নন এসি বগি, ১ টি প্যান্ট্রি কার,
১ টি পাওয়ার কার, ১ টি গার্ড ভ্যান। এই ট্রেন ৭০০ থেকে ৭৫০ যাত্রী বহন করতে
পারে। ২০ বছর চলার পর ট্রেনটি ১ নভেম্বর, ২০২৩ হতে পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল
করছে।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় ৭ অক্টোবর, ২০০৭। এই ট্রেনে ১২ টি
কোচ বা কার থাকে। এর মধ্যে ৪-৬ টি এসি কোচ, ৪-৫ টি নন এসি কোচ, ১ টি
প্যান্ট্রি কার ও ১ টি পাওয়ার কার, ১টি গার্ড ভ্যান সংযুক্ত থাকে। একটি
খাবার গাড়ী বা প্যান্ট্রি কার থাকে। এতে ৭৮০ থেকে ৮০১ জনের মতো যাত্রী বহন করতে
পারে। এতে ইএমডি জিটি ২২/জিটি ২২ সিডব্লিউ অথবা ইএমডি জিটি ২৬/জিটি ২৬ সিডব্লিউ
ডিজেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ ব্যবহৃত হয়।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪। এই ট্রেনে ১২ টি
কোচ বা কার থাকে। এর মধ্যে ৬ টি এসি কোচ, ৫ টি নন এসি কোচ ও ১ টি পাওয়ার
কার সংযুক্ত থাকে। এতে ৭৬৮ জনের মতো যাত্রী বহন করতে পারে। এসি সীট ৪৮, এসি চেয়ার
৩২০, নন এসি শোভন চেয়ার ৪০০। এই ট্রেনে কোনো প্যান্ট্রি কার নেই। ৩০০০ বা ২৯০০
সিরিজেরে ডিজেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ ব্যবহৃত হয়।
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
খুলনা টু ঢাকা ট্রেন ভ্রমনের জন্য বর্তমানে তিনটি রুটে ট্রেন চলাচল করছে। কোন
রুটে, কখন, কোন্ ট্রেন আসবে তা’ সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরী। ট্রেনে ভ্রমনের
সঠিক পরিকল্পনা করতে ভ্রমনেচ্ছুগণকে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে বা স্টেশনে
গিয়ে ট্রেন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন অথবা অনলাইনে অনুসন্ধান করে জেনে থাকেন।
এই আর্টিকেল পড়লে কোনো ব্যক্তির কাছে যাওয়া বা অনলাইনে সময়সূচী জানার চেষ্টার করার প্রয়ৈাজন
হবে না। ভ্রমনেচ্ছুদের সুবিধার জন্য এই আর্টেকেলটি লেখা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য
প্রদান করা হয়েছে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাপ্তহিক ছুটি প্রতি মঙ্গলবার। মঙ্গলবার ছাড়া
সপ্তাহের অন্য ছয় দিন রাত ৯ঃ৪৫ মিনিটে খুলনা স্টেশন ত্যাগ করে এবং ৭ ঘন্টা
২৫ মিনিট চলার পর ভোর ০৫ঃ১০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌছায়।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাপ্তহিক ছুটি প্রতি রবিবার। রবিবার ছাড়া সপ্তাহের
অন্য ছয় দিন সকাল ৯ঃ০০ মিনিটে খুলনা স্টেশন ত্যাগ করে এবং ৯ঃ০৫ ঘন্টা চলার পর
বিকাল ০৬ঃ০৫ মিনিটে ঢাকা পৌছায়।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটির সাপ্তহিক ছুটি প্রতি সোমবার। সোমবার ছাড়া সপ্তাহের
অন্য ছয় দিন সকাল ৬ঃ০০ টায় খুলনা স্টেশন ত্যাগ করে এবং ৩ঃ৪৫ ঘন্টা চলার পর সকাল ০৯ঃ৪৫ মিনিটে ঢাকা পৌছায়।
নীচে খুলনা টু ঢাকা ট্রেন ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ইত্যাদি
তথ্য ছক আকারে দেয়া হলো।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | যে স্টেশন থেকে ছাড়ে | ছাড়ার সময় | যে স্টেশনে গন্তব্য | গন্তব্যে পৌঁছার সময় | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস নম্বর-৭২৫ |
খুলনা | রাত ৯ঃ৪৫ | ঢাকা | পর দিন সকাল ৫ঃ১০ |
মঙ্গলবার |
| চিত্রা এক্সপ্রেস নম্বর-৭৬৩ |
খুলনা | সকাল ৯ঃ০০ | ঢাকা | বিকাল ৬ঃ০৫ | রবিবার |
| জাহানাবাদ এক্সপ্রেস নম্বর-৮২৫ |
খুলনা | সকাল ৬ঃ০০ | ঢাকা | সকাল ০৯ঃ৪৫ | সোমবার |
আরও পড়ুনঃ খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার হার
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের যাত্রাবিরতি স্টেশনসমূহ
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে আলোচনার এ’ পর্যায়ে
জেনে নিই খুলনা টু ঢাকা চলাচলকারী ট্রেন কোন্ কোন্ স্টেশনে কতক্ষণের যাত্রাবিরতি
করে থাকে। তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যেহেতু যাত্রাপথের সকল স্টেশনে এই
আন্তঃনগর ট্রেনগুলি থামেনা, সেহেতু কোন্ স্টেশনে কতক্ষণ থামে সেটা জানা থাকলে
যাত্রা পরিকল্পনা ও সেই অনুযায়ী ওঠা-নামা করতে সুবিধা হয়। নীচে আন্তঃনগর ট্রেনগুলির যাত্রাবিরতির তথ্য প্রদান করা হলো।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনঃ
সুন্দরবন এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি শুরু ও শেষ স্টেশন বাদে যাত্রাপথে মোট ১৩ টি
স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময় বিভিন্ন
রকম। সেই তথ্য নীচে প্রদান করা হলো।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছে | ছাড়ে | স্টেশনে বিরতি |
|---|---|---|---|
| খুলনা | স্টেশনে অপেক্ষমান | ২১ঃ৪৫ | যাত্রা শুরু |
| দৌলতপুর | ২১ঃ৫৭ | ২১ঃ৫৯ | ০ঃ০২ মিনিট |
| নোয়াপাড়া | ২২ঃ২২ | ২২ঃ২৫ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| যশোর | ২২ঃ৫৩ | ২২ঃ৫৭ | ০ঃ০৪ মিনিট |
| মুবারকগঞ্জ | ২৩ঃ২৪ | ২৩ঃ২৬ | ০ঃ০২ মিনিট |
| কোটচাঁদপুর | ২৩ঃ৩৮ | ২৩ঃ৪০ | ০ঃ০২ মিনিট |
| চুয়াডাঙা | ০ঃ২১ | ০ঃ২৪ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| আলমডাঙা | ০ঃ৪০ | ০ঃ৪২ | ০ঃ০২ মিনিট |
| পোড়াদহ | ০ঃ৫৮ | ১ঃ০০ | ০ঃ০২ মিনিট |
| কুষ্টিয়া কোর্ট | ১ঃ১২ | ১ঃ১৫ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| পাংশা | ১ঃ৫১ | ১ঃ৫৩ | ০ঃ০২ মিনিট |
| রাজবাড়ী | ২ঃ৩০ | ২ঃ৪০ | ০ঃ১০ মিনিট |
| ফরিদপুর | ৩ঃ১২ | ৩ঃ১৫ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| ভাঙ্গা | ৩ঃ৪৫ | ৩ঃ৪৭ | ০ঃ০২ মিনিট |
| ঢাকা কমলাপুর | ৫ঃ১০ | স্টেশনে অবস্থান | যাত্রা শেষ |
চিত্রা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনঃ
চিত্রা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি শুরু ও শেষ স্টেশন বাদে যাত্রাপথে মোট ১৯ টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময়
বিভিন্ন রকম। সেই তথ্য নীচে প্রদান করা হলো।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছে | ছাড়ে | স্টেশনে বিরতি |
|---|---|---|---|
| খুলনা | স্টেশনে অপেক্ষমান | ৯ঃ০০ | যাত্রা শুরু |
| নোয়াপাড়া | ৯ঃ৩৩ | ৯ঃ৩৬ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| যশোর | ১০ঃ০৪ | ১০ঃ০৮ | ০ঃ০৪ মিনিট |
| মুবারকগঞ্জ | ১০ঃ৪৯ | ১০ঃ৫১ | ০ঃ০২ মিনিট |
| কোটচাঁদপুর | ১১ঃ০২ | ১১ঃ০৪ | ০ঃ০২ মিনিট |
| দর্শনা হল্ট | ১১ঃ২৮ | ১১ঃ৩১ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| চুয়াডাঙা | ১১ঃ৫০ | ১১ঃ৫৩ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| আলমডাঙা | ১২ঃ০৯ | ১২ঃ১২ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| পোড়াদহ | ১২ঃ২৭ | ১২ঃ২৯ | ০ঃ০২ মিনিট |
| মিরপুর | ১২ঃ৪০ | ১২ঃ৪১ | ০ঃ০১ মিনিট |
| ভেড়ামারা | ১২ঃ৫২ | ১২ঃ৫৪ | ০ঃ০২ মিনিট |
| ঈশ্বরদী | ১৩ঃ১৫ | ১৩ঃ২৫ | ০ঃ১০ মিনিট |
| চাটমোহর | ১৩ঃ৪৮ | ১৩ঃ৫৩ | ০ঃ০৫ মিনিট |
| বড়ালব্রীজ | ১৪ঃ০৬ | ১৪ঃ০৯ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| উল্লাপাড়া | ১৪ঃ২৭ | ১৪ঃ৩০ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| শহীদ এম মনসুর আলী | ১৪ঃ৪৫ | ১৪ঃ৪৯ | ০ঃ০৪ মিনিট |
| ইব্রাহিমাবাদ | ১৫ঃ১৯ | ১৫ঃ২১ | ০ঃ০২ মিনিট |
| টাঙ্গাইল | ১৫ঃ৫২ | ১৫ঃ৫৫ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| জয়দেবপুর | ১৭ঃ০৪ | ১৭ঃ০৭ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| ঢাকা এয়ারপোর্ট | ১৭ঃ৩৩ | ১৭ঃ৩৫ | ০ঃ০২ মিনিট |
| ঢাকা কমলাপুর | ১৮ঃ০৫ | স্টেশনে অবস্থান | যাত্রা শেষ |
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনঃ
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি শুরু ও শেষ স্টেশন বাদে যাত্রাপথে মোট ৬ টি
স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময় বিভিন্ন
রকম। সেই তথ্য নীচে প্রদান করা হলো।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছে | ছাড়ে | স্টেশনে বিরতি |
|---|---|---|---|
| খুলনা | স্টেশনে অপেক্ষমান | ৬ঃ০০ | যাত্রা শুরু |
| নোয়াপাড়া | ৬ঃ৩৩ | ৬ঃ৩৬ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| সিঙ্গিয়া | ৬ঃ৫১ | ৬ঃ৫৩ | ০ঃ০২ মিনিট |
| নড়াইল | ৭ঃ১৩ | ৭ঃ১৬ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| লোহাগড়া | ৭ঃ২৯ | ৭ঃ৩১ | ০ঃ০২ মিনিট |
| কাশিয়ানী | ৭ঃ৪১ | ৭ঃ৪৪ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| ভাঙ্গা | ৮ঃ১৩ | ৮ঃ১৬ | ০ঃ০৩ মিনিট |
| ঢাকা কমলাপুর | ৯ঃ৪৫ | স্টেশনে অবস্থান | যাত্রা শেষ |
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার হার
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে আলোচনার এ’ পর্যায়ে
জেনে নিই খুলনা টু ঢাকা চলাচলকারী ট্রেনের ভাড়ার হার। আন্তঃনগর এই ট্রেনগুলিতে
বিভিন্ন রকম আসন ব্যবস্থা রয়েছে। সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে রয়েছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (Snigdha) ও এসি বার্থ শ্রেণীর আসন। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে রয়েছে শোভন
চেয়ার, স্নিগ্ধা ও এসি-সীট (AC-S) শ্রেণীর আসন। জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে রয়েছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা ও এসি-সীট (AC-S) শ্রেণীর আসন। নীচে খুলনা হতে স্টেশন ও আসন ভিত্তিক ভাড়ার
তালিকা দেয়া হলো। তালিকায় উল্লেখিত সকল ভাড়া ভ্যাট সহ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তবে অনলাইনে টিকিট কাটতে হলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ২০ (বিশ) টাকা যোগ
হবে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকাঃ
(খুলনা হতে-)
| স্টেশনের নাম | শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া, টাকা |
স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া, টাকা |
এসি-বার্থ আসনের ভাড়া, টাকা |
|---|---|---|---|
| দৌলতপুর | ৫০ | -- | -- |
| নোয়াপাড়া | ৫০ | ১১৫ | -- |
| যশোর | ৭০ | ১৩৩ | ২৮৬ |
| মোবারকগঞ্জ | ১০৫ | ১৯৬ | -- |
| কোটচাঁদপুর | ১২০ | ২২৫ | -- |
| চুয়াডাঙা | ১৬৫ | ৩১৭ | ৬১৪ |
| আলমডাঙা | ১৮৫ | ৩৫১ | -- |
| পোড়াদহ | ২০৫ | ৩৮৬ | ৭৪৬ |
| কুষ্টিয়া কোর্ট | ২১৫ | ৪১৪ | ৭৯২ |
| পাংশা | ২৫৫ | ৪৮৯ | ৯২৪ |
| রাজবাড়ী | ২৮৫ | ৫৪৭ | -- |
| ফরিদপুর | ৩২৫ | ৬২১ | -- |
| ভাঙ্গা | ৩৬০ | ৬৯০ | -- |
| ঢাকা | ৬২৫ | ১১৯৬ | ২২০১ |
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকাঃ
(খুলনা হতে-)
| স্টেশনের নাম | শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া, টাকা |
স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া, টাকা |
এসি-সীট আসনের ভাড়া, টাকা |
|---|---|---|---|
| নোয়াপাড়া | ৫০ | ১১৫ | ১২৭ |
| যশোর | ৭০ | ১৩৩ | ১৫৬ |
| মোবারকগঞ্জ | ১০৫ | ১৯৬ | ২৩৬ |
| কোটচাঁদপুর | ১২০ | ২২৫ | ২৭১ |
| দর্শনা হল্ট | ১৫০ | ২৮২ | ৩৪০ |
| চুয়াডাঙা | ১৬৫ | ৩১৭ | ৩৮০ |
| আলমডাঙা | ১৮৫ | ৩৫১ | ৪২০ |
| পোড়াদহ | ২০৫ | ৩৮৬৪ | ৪৬৬ |
| মিরপুর | ২১০ | ৪০৩ | ৪৮৩ |
| ভেড়ামারা | ২২৫ | ৪২৬ | ৫১২ |
| ঈশ্বরদী | ২৯০ | ৫৫৮ | ৬৬৭ |
| চাটমোহর | ৩২০ | ৬১৬ | ৭৩৬ |
| বড়ালব্রীজ | ৩৩৫ | ৬৩৯ | ৭৬৫ |
| উল্লাপাড়া | ৩৬০ | ৬৮৫ | ৮২৩ |
| শহীদ এম মনসুর আলী | ৩৮০ | ৭৩১ | ৮৭৪ |
| ইব্রাহিমাবাদ | ৫৪০ | ১০৩৫ | ১২৩৭ |
| টাঙ্গাইল | ৫৬৫ | ১০৮১ | ১২৯৪ |
| জয়দেবপুর | ৬৪০ | ১২১৯ | ১৪৬৭ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | ৬৮০ | ১৩০০ | ১৫৫৯ |
| ঢাকা কমলাপুর | ৬৮০ | ১৩০০ | ১৫৫৯ |
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকাঃ
(খুলনা হতে-)
| স্টেশনের নাম | শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া, টাকা |
স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া, টাকা |
এসি-সীট আসনের ভাড়া, টাকা |
|---|---|---|---|
| নোয়াপাড়া | ৫০ | ১১৫ | -- |
| সিঙ্গিয়া | ৫০ | ১১৫ | ১২৭ |
| নড়াইল | ৭৫ | ১৪৪ | ১৭৩ |
| লোহাগড়া | ৯৫ | ১৭৯ | -- |
| কাশিয়ানী | ১৪৫ | ২৭১ | ৩৩৪ |
| ভাঙ্গা জংশন | ১৮৫ | ৩৫১ | ৪২৬ |
| ঢাকা | ৪৪৫ | ৮৫১ | ১০১৮ |
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের প্রচলিত হার অনুযায়ী ভাড়ার এই তালিকা দেয়া হয়েছে। এই
হার পরিবর্তনশীল। এই কারণে তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার বা নিশ্চিত হওয়ার জন্য রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ই-টিকেটিং সাইট (eticket.railway.gov.bd) দেখার অনুরোধ করা হলো।
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট কাটাঃ অনলাইন বনাম অফলাইন
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ ও ভাড়ার তালিকা উপরে দেয়া হয়েছে। এই রুটে ভ্রমনের উদ্দেশ্যে টিকিট কাটার
জন্য দুই রকম পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। ১. অনলাইন পদ্ধতি, ২. অফলাইন পদ্ধতি।
আসুন এই দুই পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।
অনলাইন পদ্ধতিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের টিকিট কাটার
জন্য অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে ভ্রমনেচ্ছু যাত্রীগণ অগ্রীম টিকিট কাটার ক্ষেত্রে যে তারিখে টিকিট কাটতে চাচ্ছেন তার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যবর্তী
যে কোনো দিনের টিকেট কিনতে পারবেন। অনলাইনে টিকেট কাটার জন্য
ওয়েবসাইটের লিংক (eticket.railway.gov.bd) অথবা মোবাইল এপস (Rail sheba) ব্যবহার করা যায়। টিকিটের মূল্য নগদ, বিকাশ, উপায়, মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ড-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ হোমিওপ্যাথি কি? উপকারিতা, ব্যবহার ও ভুল ধারণা
অফলাইন পদ্ধতিঃ
সরাসরি স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটার পদ্ধতি হলো অফলাইন পদ্ধতি। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইন পদ্ধতিও চালু আছে। বর্তমানে স্টেশনে গিয়ে ভেন্ডিং মেশিন দিয়েও টিকিট কাটা যাচ্ছে। তবে সব স্টেশনে এ’ পদ্ধতি এখনও উন্মুক্ত হয়নি। যারা এখনও অনলাইন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নন বা ইন্টারনেট সুবিধা কম
ব্যবহার করেন, তাদের জন্য কাউন্টারে টিকিট কাটার ব্যবস্থা এখনো অনেকটাই
সুবিধাজনক।
খুলনা টু ঢাকা ট্রেন: সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর
খুলনা টু ঢাকা ভ্রমনেচ্ছুদের মনে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা জন্ম নিতে পারে। যেগুলির উত্তর খুঁজতে নানা জনের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয় বা ইন্টারনেটে
ঘাটাঘাটি করার প্রয়োজন হয়। নীচে এ’ ধরণের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি।
১। খুলনা হতে ঢাকার রেলপথের দূরত্ব কত?
উত্তরঃ খুলনা হতে ঢাকার রেলপথের দূরত্ব বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন রকম। সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ভ্রমনের জন্য দূরত্ব হবে ৩৮৫ কিলোমিটার। চিত্রা এক্সপ্রেসে ভ্রমনের জন্য দূরত্ব হবে ৪৪৯ কিলোমিটার। জাহানাবাদ এক্সপ্রেসে ভ্রমনের জন্য দূরত্ব হবে ২১২ কিলোমিটার।
২। ভ্রমনের সময় কি টিকেটের প্রিন্ট কপি সাথে রাখা বাধ্যতামূলক?
উত্তরঃ না, ভ্রমনের সময় টিকেটের প্রিন্ট কপি রাখা বাধ্যতামূলক নয়।
৩। শিশুর বয়স কত বছর হলে টিকেট কাটার প্রয়োজন হবে ?
উত্তরঃ রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ৩ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের
জন্য টিকেট কিনতে হবে। তবে তা’ অপ্রাপ্তবয়স্ক টিকেট (Minor Ticket) ।
৪। লাগেজ-এর ওজন কত কেজি অতিক্রম করলে বহনের জন্য অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়?
উত্তরঃ এসি
শ্রেণীতে ৫৬ কেজি ও শোভন শ্রেণীতে ২৮ কেজি অতিক্রম করলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত মুল্য পরিশোধ করার প্রয়োজন হয়।
শেষ কথাঃ খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময় সূচী ২০২৫ এবং ভাড়ার হার
খুলনা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৫ এবং ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করা হলো। স্পষ্টতঃ দেখা যাচ্ছে খুলনা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের জন্য তিনটি রুট বর্তমানে বিদ্যমান। যারা এয়ারপোর্ট, উত্তরা, মহাখালী যেতে চান তাদের জন্য চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন উপযুক্ত। আবার যারা সায়েদাবাদ, কমলাপুর, গুলিস্তান বা পুরানো ঢাকায় যেতে চান তাদের জন্য সুন্দরবন বা জাহানাবাদ এক্সপ্রেস কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। আবার দ্রুততম সময়ে ঢাকা পৌঁছাতে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস একমাত্র পছন্দের হতে পারে।
খুলনা টু ঢাকাগামী এই রুটে যে সকল ট্রেন চলাচল করে তার নাম, কোন রুটে কোন ট্রেন চলাচল করে, কোন্ কোন্ স্টেশনে থামে, আসন শ্রেণী অনুযায়ী ভাড়ার হার, কিভাবে টিকিট কাটা যায় ইত্যাদি নিয়ে এই কনটেন্টে বিস্তারিত আলোচনা করা
হয়েছে। এছাড়া কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসার উত্তরও দেয়া হয়েছে।
আশাকরি যারা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা ভ্রমন করবেন, তাদের জন্য একটি সুন্দর গাইড লাইন হিসেবে এই কনটেন্টটি ভূমিকা পালন করবে। আপনাদের যাত্রা স্বচ্ছন্দময়, সুন্দর ও
স্মরণীয় হোক। ওয়েব পেজটি সাবস্ক্রাইব করে সাথে থাকুন। ধন্যবাদ।

বহুবিধ.কম-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url