কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়?

টাকা ইনকাম একটি কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া। মানুষ টাকা ইনকামের জন্য দেশ-বিদেশ ঘুরছে। সাগর-পাহাড়-মরুভূমি চষে বেড়াচ্ছে। কত রকমের কাজই না করছে। মানুষ জানতে চায়, টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় কি? আরও বেশী টাকা ইনকামের উপায় কি? কিন্তু কেউ কি এ’ প্রশ্ন করার সাহস পাবেন- কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায় ? হ্যাঁ, টাকা ইনকাম এখন ফ্রি-তেও করা যায়। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? না, অবিশ্বাসের কারণ নেই।ফ্রি-তে  টাকা ইনকামের নানা পথ এখন উন্মুক্ত সবার জন্য ।   

কিভাবে-ফ্রি-টাকা-ইনকাম-করা-যায়

আর ফ্রি টাকা ইনকামের বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানানোই এই আর্টিকেলের উদ্দেশ্য।আশাকরি যারা হাতাশায় রয়েছেন ইনকাম না-করে বেকার বসে থাকার জন্য, কিম্বা অল্প উপার্জনে ‘দিন আনা, দিন খাওয়া’ মত করে দিনাতিপাত করার জন্য, কিম্বা আরো ইনকাম করে সংসার সুখে-স্বচ্ছন্দে ভরিয়ে দিতে না-পারার জন্য, তাদের জন্য বলছি। এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পুরোটা পড়ুন। অনেক পথের বিবরণ এখানে দেওয়া হলো। কোনো একটিতে লেগে পড়ুন।

পেজ সূচীপত্রঃ কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়

কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়

কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়-এ’ প্রশ্নের জবাব জানার আগে জানা দরকার ফ্রি ইনকাম আসলে কি? ফ্রি টাকা ইনকামের উপায় বলতে আমরা সাধারণত সেইসব পদ্ধতিকে বুঝি যেগুলোতে কোনো মূলধন বা আর্থিক বিনিয়োগ ছাড়াই কেবলমাত্র সময়, দক্ষতা, স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে আয় করা যায় এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই ধরনের সুযোগ আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বর্তমান সময় পুরোপুরি তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর। তথ্য প্রযুক্তি এসেছে ইন্টারনেটের হাত ধরে। সারা বিশ্বে দ্রুত ইন্টারনেটের বিস্তারই তথ্য প্রযুক্তিকে হাতের কাছে নিয়ে এসেছে। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে আর এক প্রান্তে মুহূর্তেই ঘটে যাওয়া ঘটনা বা কারো কোনো সৃষ্টি পৌঁছে যাচ্ছে বিনা বাধায়। মানুষকে দেশের সীমানায় বেধে রাখা গেলেও তথ্যকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেট হয়ে গিয়েছে নিত্য সময়ের সংগী। ইন্টারনেট এখন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক মানুষের জীবিকার উৎস।

আরো পড়ুনঃ হেমন্ত কালের বৈশিষ্ট্য কিঃ কেন এটি অন্য ঋতু হতে আলাদা

অনেকেই এখন ঘরে বসে নিজের সময়-সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনকামে লেগে পড়েছেন। কাজে লাগাচ্ছেন ইন্টারনেট। কাজ করছেন পার্ট টাইম-ফুল টাইম। এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে ফ্রি ইনকাম করা যায়। অনলাইন ব্যবহার করে ? কিন্তুৃ কিভাবে? কিভাবে নিজের বুদ্ধি, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ব্যবহার করে ইনকাম সম্ভব কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই? হ্যাঁ, সম্ভব। কিভাবে ফ্রি ইনকাম করা যায় তার  বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জন্য লেখা হলো।

অনলাইন ইনকাম কি-কেনো এটি জনপ্রিয়

অনলাইন বলতে আমরা বুঝি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকা। আর অনলাইন ইনকাম বলতে বোঝায় ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে ইনকামের পদ্ধতিকে। হয়ত এক দশক আগেও কেউ অনলাইন ইনকাম নিয়ে ভাবতেও পারেনি। বর্তমানে অনলাইন ইনকামের এত এত মাধ্যম উন্মোচিত হয়েছে যে লাখ লাখ লোক এখানে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। উদাহরণ স্বরূপ ডিজিটাল পণ্য বিক্রি, ফ্রি-ল্যান্সিং, ব্লগিং, কনটেন্ট তৈরী, ইউটিউব বা ফেসবুকের মাধ্যমে আয় উল্লেখ করা যেতে পারে।

ডিজিটাল মাধ্যম বিস্তারের সাথে সাথে অনলাইন ইনকাম দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ, এখানে কোনো বাস্তব কর্মক্ষেত্র নেই। ভার্চুয়াল জগতে যুক্ত থেকেই নিজের ইচ্ছা-স্বাধীন মতো, ঘরে বসে ও প্রায় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই ইনকাম করা যায়। এখন অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়ানো সকল কাজে ইন্টারনেট জড়িয়ে রয়েছে। তাই অনলাইন ইনকামের পথও প্রশস্ত হয়েছে। ঘুম থৈকে উঠে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এখন অনলাইন জড়িত, সাথ সাথে অনলাইন ইনকামও জড়িত। আমরা একটি বিষয় দেখে বিনোদিত হচ্ছি। বিপরীতে যিনি ঐ বিষয়টি প্রস্তুত করেছেন তিনি ইনকাম করছেন। এভাবেই বিনোদন প্রিয় মানুষের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন ইনকাম। 

আসলে অনলাইনে ফ্রি টাকা ইনকামের উপায় এখন অনেক। দিন দিন এর শাখা-প্রশাখাও সৃষ্টি হচ্ছে। এই আর্টিকেলে গুরুত্বপূর্ন এবং বর্তমানে ফ্রি ইনকামের জনপ্রিয় কয়েকটি মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করবো।

আরো পড়ুনঃ আরবী ক্যালেন্ডার ২০২৬-আরবী ১২ মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৬

দক্ষতা শেখার উপায়-ফ্রি দক্ষতা অর্জন

টাকা ইনকাম করার প্রথম ধাপ দক্ষতা অর্জন। দক্ষতা না-থাকলে শুরু করেও মুখ থুবড়ে পড়তে হতে পারে। কারণ একজনকে উপরে উঠতে হরে নানান দক্ষ ব্যক্তিদের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থেকে তবে উন্নয়ন ঘটাতে হয়।

তবে দক্ষতা বর্তমানে ফ্রি শেখার সুযোগ রয়েছে। অনেক অনলাইন প্লাটফর্ম রয়েছে যে গুলি ব্যবহার করে দক্ষতা অর্জন বা উন্নয়ন সম্ভব । 

  • ইউটিউব-এটি দক্ষতা শেখার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ফ্রি মাধ্যম। এখানে প্রচুর কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের অর্জিত দক্ষতাগুলো বাংলা ভাষায় তৈরী ভিডিও আপলোড করে থাকেন। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্ঞান অর্জন করা যেত পারে।
  • গুগল ডিজিটাল গ্যারেজ-এটি ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার দারুন একটি ফ্রি রিসোর্স। 
  • স্কিল শেয়ার-এখানে অনেক কোর্সের ফ্রি ভিডিও বা কমদামে ভিডিও পাওয়া যায়। যা থেকে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
এভাবে অথবা অন্য যে কোনো ভাবে দক্ষতা অর্জন করা গেলে ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির মাধ্যমে কাজের পরিসর সঙ্গে ইনকামও বাড়ানো যাবে।
কিভাবে-ফ্রি-টাকা-ইনকাম-করা-যায়

ফ্রিল্যান্সিং-ফ্রি-ইনকামের সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ

বলা যায়, ফ্রি ইনকামের অন্যতম জনপ্রিয় উপায় হলো ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং করে ফ্রি টাকা ইনকাম করতে কোনো টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন নেই। বিনিয়োগ ছাড়াই লেখার ক্ষমতা ও  দক্ষতা ব্যবহার করে ইনকাম করা যায়। এখানে কারো অধীনে না-থেকে নিজেই নিজের বস হয়ে কাজ করা যায়। শুধুমাত্র একটি ই-মেইল (জি-মেইল) নম্বর ও ইন্টারনেট থাকলেই ফিল্যান্সিং-এর কাজ শুরু করা যায়। কোনো কাঁচামালা নেই, কোনো যন্ত্রপাতি প্রয়োজন নেই, লোকবল প্রয়োজন নেই। শুধু নিজের শ্রম ও সময় বিনিয়োগই যথেষ্ট। 

জনপ্রিয় ফ্রি-ল্যান্সিং সাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে Upwork, Fiverr, Freelancer.com কিংবা PeoplePerHour-এর মতো প্ল্যাটফর্ম। একজন নতুন ব্যক্তি চাইলে নিজস্ব স্কিল তৈরি করে সম্পূর্ণ বিনা খরচে অনলাইনে কাজ শুরু করতে পারে এবং কেবল দক্ষতা যত বাড়বে, আয়ও তত বাড়বেঅর্থাৎ এখানে মূল বিনিয়োগ হচ্ছে আপনার সময় ও পরিশ্রম।

তবে ফ্রিল্যান্সিং-্এর মাধ্যমে কাজ পেতে আপনার থাকতে হবে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা। দক্ষতাগুলোর মধ্যে রয়েছে-ওয়েব ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও এনিমেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট,  ডেটা এন্ট্রি, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স, প্রোগ্রামিং, ট্রান্সলেশন ইত্যাদি। 

ইউটিউব-চ্যানেল থেকে ইনকাম

ইউটিউব (YouTube) হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন। অনেক ইউটিউবার ভিডিও তৈরী করে আপলোড করে ব্যাপক টাকা ইনকাম করছেন। এই ভিডিও ধারণ করতে শুরুতে মোবাইল-ই ব্রবহার করা যায়। তবে পেশাদারী ভিডিও প্রস্তুতের জন্য ভালো ক্যামেরা ও অডিও-ভিডিও এডিটিং জানতে হবে। ইউটিউবে কেউ টেকনোলজি সংক্রান্ত ভিডিও শেয়ার করছেন। কেউ রান্না-বান্না সংক্রান্ত, কেউ শিক্ষা সংক্রান্ত, কেউ গান শেয়ার করছেন। কিভাবে শুরু করবেন-

  • একটি জি-মেইল দিয়ে ইউটিউবে একটি একাউন্ট খুলতে হবে;
  • নির্দিষ্ট একটি বিষয় (শিক্ষা, ভ্রমন, বিনোদন, রান্না, নিউজ ইত্যাদি) বেছে নিতে হবে;
  • নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে হবে;
  • যখন ১০০০ সা্বস্ক্রাইবার ও ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম হবে তখন ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যোগ দেবার জন্য আবেদন করতে হবে;
  • এরপর গুগল এডসেন্স এর সাধ্যমে টাকা আয় শুরু হবে

তাছাড়া ভিডিওতে কোনো কোম্পানী বিজ্ঞাপন স্পন্সর করতে পারে। প্রতি বার বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য দাতা কোম্পানী পেমেন্ট করবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েশন-শূণ্য পুঁজি, বিশাল সম্ভাবনা

কনটেন্ট ক্রিয়েশন এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সম্পূর্ণ ফ্রি শুরু করা যায় এবং সবচেয়ে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া যায়।অনেকেই কনটেন্ট ক্রিয়েশন-এর মাধ্যমে আয় করেন। Facebook Reels, Tiktok বা Instagram-এ ভিডিও বানিয়ে মনিটাইজেশন, ব্র্যান্ড স্পনসরশিপ বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফ্রি আয় করা যায়। যেহেতু এসব প্ল্যাটফর্মে একাউন্ট খুলতে টাকা লাগে না, তাই মানুষ তাদের প্রতিভা-হোক তা শিক্ষা, রেসিপি, বিনোদন, মোটিভেশন, টেক টিপস, হস্তশিল্প-ব্যবহার করে হাজার হাজার দর্শককে আকর্ষণ করেন এবং আয়ের পথ তৈরি করেন। কনটেন্ট তৈরিতে যাদের ক্যামেরা নেই তারা কেবল মোবাইল দিয়েই শুরু করতে পারে, এমনকি অনেকেই ভয়েস-ওভার ভিডিও বা ক্যারেক্টার অ্যানিমেশন ভিডিও করে মনিটাইজেশন পেয়ে থাকে।

ব্লগিং-লিখেই ইনকাম

কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়-এ’ বিষয়টি বিবেচনায় নিলে টাকা আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ব্লগিং। ব্লগিং করে যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গা থেকে ফ্রি আয়ের ব্যবস্থা করা যায়।ব্লগিং হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি প্যাসিভ ইনকামের সেরা উপায়গুলোর একটি। Blogger.com বা Wordpress.com-এ বিনামূল্যে ব্লগ খুলে সেখানে নিয়মিত মানসম্মত আর্টিকেল পোস্ট করলে Google Adsense এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করা যায়। ব্লগিং-এ প্রাথমিকভাবে বেশি ধৈর্য দরকার, কারণ পাঠক তৈরি হতে সময় লাগে, কিন্তু একবার ব্লগে ট্রাফিক বাড়লে এটি দীর্ঘমেয়াদে প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করে। যে বিষয়গুলো নিয়ে ব্লগ করলে দ্রুত ট্রাফিক আসে- 

  • স্বাস্থ্য
  • টেক
  • রিভিউ
  • ফ্রিল্যান্সিং গাইড
  • ভ্রমন
  • শিক্ষা, ইত্যাদি

 ব্লগিং-এ বিনিয়োগ লাগে না, কিন্তু ধৈর্য লাগে—কারণ গুগল ট্রাফিক আসতে সময় নেয়।তবে ভালো আর্টিকেল লিখতে পারলে কয়েক মাস পর থেকেই আয় শুরু হয় এবং এটি মাসের পর মাস আয় এনে দেয়।

এফিলিয়েটেড মার্কেটিং-প্রচার করে কমিশন আয়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ বিনা পুঁজিতে করা সম্ভব। কাজ খুব সহজ-একটি পণ্য সুপারিশ করা এবং লিঙ্ক দিয়ে ক্রেতা পাঠানো। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংও একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফ্রি আয়ের উপায়, যেখানে Amazon, Daraz, Clockbank, JVZoo, ShareAsale-এর মতো অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক থেকে কোনো পণ্য বেচে কমিশন আয় করা যায়। একজন ব্যক্তি কেবল একটি লিংক শেয়ার করেই অন্যকে পণ্য কেনার পর কমিশন উপার্জন করতে পারে-এতে কোনো বিনিয়োগ লাগে না, কেবল সঠিকভাবে পণ্য রিভিউ তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বা ব্লগ/ইউটিউবের মাধ্যমে প্রচার করতে হয়।অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এর আওতায় বিভিন্ন গ্যাজেট, কোর্স, ফ্যাশন, সফটওয়্যার, ই-বুক ইত্যাদির লিংক ফেসবুক পেজ, ইউটিউব ভিডিও ডেসক্রিপশন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ব্লগ, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদিতে শেয়ার করা যায়।

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন

সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হলো ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন।বাংলাদেশে Facebook Page সবচেয়ে দ্রুত মনিটাইজড হওয়ার একটি ভালো উপায়। ফেসবুক ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কলাবোরেশন ম্যানেজার বা রিল মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আয় করা যায়। যেহেতু ফেসবুক পেজ তৈরি করা সম্পূর্ণ ফ্রি, তাই কনটেন্ট ভালো হলে আয়ও তুলনামূলক দ্রুত শুরু হয়। পাশাপাশি ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অনেকেই ব্র্যান্ডের প্রচার করে আয় করে থাকেন-এটি সম্পূর্ণ ফ্রি কিন্তু প্রয়োজন ধারাবাহিক কনটেন্ট এবং দর্শক ধরে রাখার দক্ষতা।

ওয়েবসাইট বানিয়ে আয়

বর্তমানে গুগল এডসেন্সর মাধ্যমে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি টাকা ইনকামের সুযোগ থাকায় ওয়েব সাইট প্রস্তত বা ক্রয়ের আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ওয়েবসাইট প্রস্তুত এখন অনেকটাই সহজ। তবে ভালো ডিজাইনের ওয়েবসাইট না-হলে সেগুলোর তেমন চাহিদা থাকে না। ভালো মানের ওয়েবসাইট না-হলে মূল্যও তেমন পাওয়া যায় না। জানা যায়, একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট আশি হাজার হতে এক লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। 

আরো পড়ৃুনঃ জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে

বর্তমানে ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েব সাইট তৈরী করা হচ্ছে। সাইটে পর্যাপ্ত কনটেন্ট আপলোড করে সচল করলে ভালো দামে বিক্রি করা যেতে পারে।এক্ষেত্রে ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকলে ভালো ওয়েব সাইট প্রস্তুত করা সম্ভব এবং তা ভালো দামে বিক্রি করা যায়। অবশ্য একবার শুরু করলে ক্রমেই দক্ষতা অর্জন হয় এবং ক্রমান্বয়ে ভালো মানের কাজ ডেলিভারি দেয়া যায়।

অনলাইন কোর্স বিক্রি ও ডিজিটাল সার্ভিস শেয়ারিং

আর একটি বড় ক্ষেত্র হলো ফ্রি অনলাইন কোর্স বিক্রি ও ডিজিটাল সার্ভিস শেয়ারিং। Skillshare, Udemy-এর মতো প্ল্যাটফর্মে কেউ তার জ্ঞানকে ভিডিও আকারে আপলোড করে আয় করতে পারে। অনেকেই Canva বা Google docs ব্যবহার করে নোট, টেমপ্লেট, ক্যালেন্ডার, ডিজিটাল ফাইল তৈরি করে Etsy বা Gumroad-এ বিক্রি করেন যা শুরু করতে কোনো খরচ লাগে না। ডিজিটাল পণ্য একবার তৈরি করলে মাসের পর মাস ইনকাম করতে পারেএটাই প্যাসিভ ইনকাম-এর ভালো দিক।

কিভাবে-ফ্রি-টাকা-ইনকাম-করা-যায়

এআই টুল দিয়ে আয়-নতুন যুগের ইনকাম

যারা বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন, তাদের সবার কাছে এআই (AI) একটি জনপ্রিয় নাম।কে না এআই টুল দিয়ে ছবি বানিয়ে, ভিডিও বানিয়ে তা তাদের ফ্যান-ফলোয়ারের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই এআই টুলসগুলি অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে-চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), ক্যানভা এআই (Canva AI), গুগল জেমিনি (Google Gemini), লিওনার্ডো এআই (Leonardo AI) ইত্যাদি।এআই দিয়ে যে সকল কাজ করে ইনকাম করা যাচ্ছে তা’ হলো-

- আর্টিকেল লেখা
- ভিডিও স্ক্রিপ্ট
- থাম্বনেইল ডিজাইন
- ই-বুক তৈরী
- সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট

এসব কাজ ফ্রিল্যান্সিং মাধ্যম Fiverr/Upwork বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিক্রি করে ইনকাম করা যায়।যেহেতু এই টুলগুলোর ফ্রি ভার্সনেও কাজ করা যায়, তাই শেখার মাধ্যমে শূন্য মূলধনে আয় শুরু করা সম্ভব। অনেকে ইবুক তৈরি করে Amazon Kindle Direct Publishing (KDP)-তে আপলোড করে থাকেন—এটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং বই বিক্রি হলেই ইনকাম আসে। একইভাবে প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড বা POD (যেমন Teespring, Redbubble, Printify, Zazzle) ব্যবহার করে টি-শার্ট ডিজাইন, স্টিকার, মগ—এসব বিক্রি করে আয় করা যায়, যেখানে ডিজাইন আপলোড ছাড়া আর কিছুই করতে হয় না।

অনলাইন টিউটরিং- জ্ঞান দিয়ে আয়

বিভিন্ন কোচিং সেন্টার অথবা ব্যক্তি এখন অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে পাঠদান করছে। যা এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উদাহরণ হিসাবে ১০ মিনিট স্কুল-এর নাম উল্লেখ করা যায়। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলাদশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিষয় ওয়ারী বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহন করছে। এই উদ্দেশ্যে পৃথক অ্যাপস, ওয়েবসাইট, জুম বা গুগল মিট প্রোগ্রাম ব্যবহৃত হচ্ছে।ইউটিউবে টিউটোরিয়ালও আপলোড করে রাখা যেতে পারে।এই কাজে ব্রবহৃত জনপ্রিয় সাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে Preply, Tutor.com, Superprof ইত্যাদি। বর্তমানে ফেসবুক বা ম্যাসেঞ্জারেও টিউশন প্রদান করা হচ্ছে। এটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ড্রপশিপিং-এর মাধ্যমে আয়

ড্রপশিপিং আসলে কি? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি। দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট দ্রব্যাদি উৎপাদন হওয়ায় বেশী পাওয়া যায়। ফলে স্তানীয় বাজারে ঐ পণ্যের দাম বেশ কম থাকে। ঐ পণ্য কম দামে স্থানীয় বাজার হতে কিনে কোনো ই-কমার্স ওয়েব সাইটে প্রোফাইল খুলে একটু চড়া দামে বিক্রি করাই হচ্ছে ড্রপ শিপিং। 

আরো পড়ুনঃ এআই টুল দিয়ে আয়-নতুন যুগের ইনকাম

ধরা যাক কোনো পণ্যের স্থানীয় বাজারে বিক্রয় মূল্য ৫০০ টাকা। কিন্তু ঐ পণ্য অনলাইন শপে বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়। তো ঐ অনলাইন শপে নিজেকে সরবরাহকারী হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করে (প্রোফাইল খুলে) ঐ পণ্য স্থানীয় বাজার হতে ক্রয় করে ই-শপের মাধ্যমে বিক্রয় করে ভালো টাকা ইনকাম করা যায়। ড্রপশিপিং এর মাধ্যমে শাক-সবজি, মাছ-মাংস বা অন্য যে কোনো কৃষি পণ্য বিক্রি করা যায়। ড্রপশিপিং ফ্রি ইনকাম করার সহজ উপায়।

রিসেলিং-নিজের পণ্য না-থাকলেও আয়

রিসেলিং করে ফ্রি টাকা আয় এখন বেশ জনপ্রিয়। অনলাইনে পণ্য বিক্রয়কারীদের অনেকেরই নিজেদের পণ্য নেই। কিন্তু তারা পণ্য বিক্রয় করছেন। অর্থাৎ তারা রিসেলিং করছেন। অন্যের পণ্য বিক্রয় করছেন।  এক্ষেত্রে সরাসরি কোনো বিনিয়োগ নেই।অন্যের পণ্যকে নিজের ফেসবুক পেজে বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ দিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এর ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন গ্যাজেট, পোশাক, কসমেটিকস, ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করে ইনকাম করা যায়। এতে বিনয়োগের চাপ নেই, কোনো ঝুঁকিও নেই। পণ্যের ছবি দিয়ে পোস্ট দিতে হবে। অর্ডার আসলে সরবরাহকারীকে জনাতে হবে। সরবরাহকারী পণ্য পাঠাবে।বিক্রির বিপরীতে নির্দেষ্ট পরিমান টাকা সরবরাহকারী পাঠিয়ে দেবে। 

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ইনকাম

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফ্রি টাকা ইনকাম এখন খুব জনপ্রিয়। কুইজ অ্যাপ, টাস্ক অ্যাপ, ক্যাশব্যাক অ্যাপ, গেমিং অ্যাপ—যেমন Google Play Games, Winzo-র মতো প্ল্যাটফর্মে খেলা বা টাস্ক করে আয় করা যায়, যদিও এসব অ্যাপ বেছে নিতে সতর্ক হতে হয় যেন কোনো স্ক্যাম না হয়। এছাড়া ব্রাউজার-ভিত্তিক আয়ের মাধ্যম যেমন Brave Browser ব্যবহার করলে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার বিনিময়ে টোকেন উপার্জন করা যায়। আবার কিছু অ্যাপ আছে যেখানে হাঁটার মাধ্যমে ইনকাম করা যায়-যেমন Step App বা Sweatcoin, যা প্রতিদিনের হাঁটাকে ডিজিটাল রিওয়ার্ডে রূপান্তর করে।

আরও পদ্ধতিঃ ফ্রি টাকা ইনকাম করার

আরও বেশ কিছু পদ্ধতি নীচে আলোচনা করা হলোঃ

মাইক্রো-টাস্কিং প্ল্যাটফর্মঃ মাইক্রো-টাস্কিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Amazon Mechanical Turk, Remotasks, Clickworker, Microworkers, Appen বা UHRS-এর মাধ্যমে ছোট ছোট কাজ করে ফ্রি আয় করা যায়। এসব কাজে ছবি লেবেলিং, ডেটা ক্যাটেগরাইজেশন, ট্রান্সক্রিপশন, সার্চ ইভ্যালুয়েশন ইত্যাদি করা হয়; যদিও প্রতি কাজের পেমেন্ট কম, তবে ধারাবাহিকভাবে করলে ভালো উপার্জন হয়। একইভাবে বিভিন্ন সার্ভে সাইট যেমন Google Opinion Rewards, Survey Junkie, Toluna, TimeBucks কিংবা PrizeRebel-এর মাধ্যমে জরিপ উত্তর দিয়ে বা ছোট টাস্ক করে পয়েন্ট সংগ্রহ করা যায়, যা পরবর্তীতে PayPal, Gift Card বা মোবাইল রিচার্জে রূপান্তর করা সম্ভব। যদিও সার্ভে-ভিত্তিক আয় খুব বড় হয় না, তবে এটি পুরোপুরি ফ্রি এবং অতিরিক্ত সময়ে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে।

রেফারাল বোনাসঃ ফ্রি ইনকামের ক্ষেত্রে রেফারাল বোনাস আরেকটি বড় উৎস। বিভিন্ন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম রেফার করলে পয়েন্ট বা ক্যাশ দেয়, যেমন অনেক ওয়ালেট অ্যাপ, ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বা রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ।কাজ শুধু নতুন ইউজারকে রেফার করা।

ফেসবুক গ্রুপ তৈরীঃ বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী গ্রুপ যেমন-শপিং, চাকুরী, ফুড, টেক ইত্যাদি বড় গ্রুপ তৈরী করা হলে ব্রান্ড কোম্পানী স্পসর কতে আগ্রহী হয়।

সার্চ ইঞ্জিন ইভালুয়েটরঃ বড় বড় কোম্পানি (যেমন Google, Bing) তাদের সার্চ ফলাফল পরীক্ষা করাতে মানুষ নিয়োগ করে। সার্চ রেজাল্ট সঠিক কি না যাচাই, গুগল সাজেস্ট ঠিক কিনা দেখা এর অন্তর্ভূক্ত।

অ্যাপ রিভিউ / গেম রিভিউ করে আয়ঃ অনেক অ্যাপ ডেভেলপার তাদের অ্যাপ রিভিউ করতে ইউজারকে পেমেন্ট করে।রিভিউ করতে লাগে-মোবাইল, ইন্টারনেট, ২–৩ মিনিট সময়।

ট্রান্সক্রিপশন-অডিও শুনে লিখে ফেলাঃ ট্রান্সক্রিপশন সহজ স্কিলের একটি। ইংরেজি অডিও শুনে লিখে ফেলা হলো কাজ। শোনর দক্ষতা লাগবে। দ্রুত টাইপিং েএর দক্সতা লাগবে।

ডাটা এন্ট্রিঃ নতুনদের জন্য সেরা ও সহজ কাজ।এর আওতায় বিভিন্ন লেখা টাইপ করা, এক্সেল শীট তৈরী, ডাটা সাজানো, কপি-পেস্ট করা হয়।

আরো পড়ুৃন ব্লগে টেবিল তৈরীর পদ্ধতি

ক্যাপশন/সাবটাইটেল তেরী করাঃ অনেক ভিডিও এডিটর তাদের ভিডিওতে সাবটাইটেল যোগ করতে পারে না, তাই ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ করে।কাজ সহজ, কোনো বিনিয়োগ নেই।

ভিডিও এডিটিংঃ ফেসবুক ক্রিয়েটরস, ইউটিউবারস, টিকটকারসদের জন্য ভিডিও েএডিটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ্। এর চাহিদাও অনেক বেশী। এই স্কিল Fiverr, upwork এ বেশী বিক্রি হয়।

এ ছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, পেজ বুস্টিং পরামর্শ, ক্যাম্পেইন সেটআপ—এসব সার্ভিস বিক্রি করে ইনকাম করা যায় যা শুরু করতে কোনো টাকার প্রয়োজন নেই।

 প্রতারণা বা স্ক্যাম হতে সাবধান

যেহেতু ফ্রি ইনকামের এ’ সকল কাজসমূহ অনলাইনে, সরাসরি দৃশ্যমান নয়, সেহেতু কিছু প্রতারণার ঘটনাও ঘটতে পারে। এ’ সকল প্রতারণার বিষয়ে জানতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।যেমন ‘এক দিনে ১০০ ডলার’ এমন লোভনীয় প্রস্তাব পোস্ট করে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। অফার প্রদানকারী সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তবেই এ’ ধরণের অফারে সাড়া দিতে হবে। যেভাবে সতর্ক থাকা যেতে পারে-

- কোনো অফারকারী আগে টাকা চাইলে প্রদান না-করা;
- রিভিউ বা ইউটিউব ভিডিও দেখে যাচাই করা;
- নিজের ব্যক্তিগত তথ্য অজানা সাইটে না-দেওয়া;
- নিজের ব্যাংক বা বিকাশ তথ্য শেয়ার না করা;

সতর্ক থাকতে হবে, ভয়ে পিছিয়ে গেলে তো আসল উদ্দেশ্যই বৃথা হবে। তাই অভিজ্ঞ জনের সাথে কী কী প্রতারণার সুযোগ আছে সে বিষয়গুলো জেনে নিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করো যেত পারে।

সাফল্যের মূলমন্ত্র

অনেকে খুব আশা করে অনলাইন জগতে পদার্পন করেন এই ভেবে যে,অতি দ্রুত কাড়ি কাড়ি ডলার একাউন্টে জমা হবে। কিন্তু টাকা আসছে না দেখে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আসরে ফ্রি ইনকাম মানে এমন নয় যে কোনো কাজই করা লাগবে না, টাকা উড়ে এসে একাউন্টে জমা হবে।

ইনকামে সফলতা আনতে গেলে লাগবে ধৈর্য্য, শেখার মানসিকতা ও কঠিন পরিশ্রম। বিশেষ করে কাজ শুরুর প্রথম দিকে ইনকাম আসার নম্ভাবনা অনেক কম। তখন ধৈর্য্য হারিয়ে হতাশ হলে চলবে না। কাজ করে যেতে হবে ধারাবাহিকভাবে।এক সময় সাফল্য আসবে।এ’ বিষয়ে সাফল্য পেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নীচে দেওয়া হলো, যা কাজে আসতে পারে-
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে;
- একটি নির্দিষ্ট কাজের স্কিল অর্জন করতে হবে;
- ছোট সফলাতে হেলা-ফেলা করা যাবে না;
- আজ কী কী কাজ করা হলো তার হিসাব রাখতে হবে
সফল ব্যক্তিগণ এখন অনেক টাকা ইনকাম করছে, মানে এই নয় যে তারা কাল কাজ শিখে আজই ইনকাম শুরু করেছেন। তাদের দীর্ঘ যাত্রা পথের অনেক চড়াই উৎরাই রয়েছে। সেসব পেরিয়ে তবেই তারা আজ সফল। আপনার সফলতাও একই সূত্রে গাঁথা। চাই আপনার অধ্যাবসায়, লেগে থাকার মানসিকতা।লেগে থাকুন, সাফল্য আসবেই।

সবশেষঃ কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়

উপরে কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আলোচনা হতে এটা স্পষ্ট যে, ফ্রি ইনকামের মূল শর্ত হলো-সততা, দক্ষতা বৃদ্ধি, সময় ব্যবস্থাপনা, ধারাবাহিকতা এবং সঠিক প্ল্যাটফর্ম বাছাই। যেকোনো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে গবেষণা করতে হবে যাতে স্ক্যাম থেকে বাঁচা যায়। অনেকেই দ্রুত আয়ের আশায় ভুল পথে যায়, কিন্তু সত্য হলো-ফ্রি ইনকাম মানে এটি সহজ নয়, বরং টাকার বিনিয়োগ নেই কিন্তু পরিশ্রমের বিনিয়োগ লাগে। 

ধৈর্য ধরে যে কেউ শূন্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় আয়ে পৌঁছাতে পারে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফ্রি ইনকামের সুযোগ অসংখ্য-ফ্রিল্যান্সিং থেকে ইউটিউব, অ্যাফিলিয়েট থেকে ব্লগিং, ডিজিটাল পণ্য থেকে সার্ভে, মাইক্রো-টাস্ক থেকে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং-সবকিছুরই দরজা এখন উন্মুক্ত। সঠিক পথ বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করলে ঘরে বসেই নিজের দক্ষতাকে মূলধন বানিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বহুবিধ.কম-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Author Bio

Sanjib Kumar Roy
Engr. Sanjib Kumar Roy
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও বহুবিধ.কম এর এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।